সহজিয়া প্রোগ্রামিং শিক্ষা(পাইথন) পর্ব -৪ (চার)

সহজিয়া প্রোগ্রামিং শিক্ষা(পাইথন) পর্ব -৩ (তিন )

এক্সপ্রেশন ঃ

এক্সপ্রেশন হচ্ছে ভ্যালু , ভেরিয়েবল, এবং ওপারেটর  এর কম্বিনেশন। যেমন x + 55 একটা এক্সপ্রেশন।

আবার একটা ভেরিয়েবল একাকীও একটা এক্সপ্রেশন । যেমন x

বুলিয়ান এক্সপ্রেশন ঃ

বুলিয়ান এক্সপ্রেশন হচ্ছে একটা এক্সপ্রেশন যেটা ট্রু হবে অথবা ফলস হবে।

>>> 8 == 8

TRUE

>>> 8 == 7

FALSE

== অপারেটর টা একটা কম্প্যারিজন অপারেটর। অন্যান্য কম্পেরিজন অপারেটর গুলো হলো

x != y # x is not equal to y
x > y # x is greater than y
x < y # x is less than y x >= y # x is greater than or equal to y
x <= y # x is less than or equal to y
x is y # x is the same as y
x is not y # x is not the same as y

প্রোগ্রামিং এর ক্ষেত্রে = সাইন টা দ্বারা এসাইন করা বুঝায়। যেমন x = 5 মানে x এর ভ্যালু 5 নির্ধারণ করলাম। = এসাইন্মেন্ট অপারেটর

সমান সমান বুঝাতে == সাইন ব্যাবহার করা হয়।  == হচ্ছে কম্প্যারিজন অপারেটর

লজ্যিকাল অপারেটর ঃ

লজ্যিকাল অপারেটর ৩ টি

and  , or, not   অপারেটর গুলোর বর্ননা নুহিল মেহেদি ভাই থেকে নেয়া।

and
এই অপারেটর দুটো আর্গুমেন্ট নিয়ে যাচাই করে এবং সত্য হয় যখন দুটো আর্গুমেন্টই সত্য হয়।

>>> 1 == 1 and 2 == 2
True

এখানে 1 == 1 সত্য এবং 2 == 2 সত্য। তাই and অপারেটর এর আউটপুট True.অন্যান্য প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে এ ধরণের AND, OR বা NOT অপারেটরকে সাধারণত &&, ||, !দিয়ে প্রকাশ করা হয় যেখানে পাইথনে শব্দ আকারে লেখা হয়।

or
উপরে উল্লেখিত and অপারেটর এর মতই or এরও দুটো আর্গুমেন্ট থাকে কিন্তু এটি সত্য হয় যদি উক্ত দুটো আর্গুমেন্টের যেকোনো একটি সত্য হয়। অর্থাৎ নিচের স্টেটমেন্টে,

>>> 1 == 1 or 2 == 3
True

এখানে or এর বাম পাশের লজিকটি সত্য কিন্তু ডান পাশেরটি সত্য নয়। তারপরেও or এর আউটপুট True.

not
অন্য দুটি অপারেটর এর মত not দুটো আর্গুমেন্ট নিয়ে কাজ করে না। বরং এর জন্য একটি আর্গুমেন্টই যথেষ্ট। এটি দিয়ে চেক করা হয় কোন লজিক না হয় কিনা। নিচের উদাহরণ দেখলে পরিষ্কার বোঝা যাবে,

>>> not 1 == 1
False
>>> not 1 > 7
True
প্রথম স্টেটমেন্ট এর 1 == 1 এটা আমরা সবাই জানি। এর সামনে not জুড়ে দিয়ে দেখার চেষ্টা করছি যে 1 == 1 নয়। কিন্তু এটা আসলে ঠিক না, ১ আর ১ তো সমানই। আর তাই not 1 == 1 এর আউটপুট আসছে False. সেরকম দ্বিতীয় লাইনে দেখছি/পড়ছি নয় ১ > ৭ এবং এটা সঠিক। আসলেই ১ কিন্তু ৭ এর চেয়ে বড় নয়। তাই not 1 > 7 স্টেটমেন্টটি সত্য রিটার্ন করছে।

উদাহরণ

a = 1
b = 1

c = 5
d = 10

if a == b and d > c:
    print("a and b are equal and d is greater than c")

আউটপুট,

a and b are equal and d is greater than c



কন্ডিশনাল এক্সপ্রেশন ঃ


উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা  ভালো বোঝা যাবে
if x > 0 :
    print('x is positive')
এখানে if হচ্ছে কন্ডিশন । if স্টেট্মেন্ট শেষ হয় : দিয়ে। : এর পরে নিচের লাইনে ৪ টা ব্যক্সপেস বা 
একটা ট্যাব দিয়ে ফাকা করা। পাইথনে এটাকে বলে indent. অন্যান্য ল্যাঙ্গুয়েজে কোড ব্লক বোঝাতে 
{ ইউজ করা হয়, পাইথনে ব্যাবহার হয় indent. indent ভুল হলে indentation error  আসবে। 

যদি লজিকাল কন্ডিশনটা ট্রু হয় তাহলে ইন্ডেন্ট এর ভিতরের ব্লক এর কোড ইক্সিকিউট হবে। 
লজিকাল কন্ডিশন ফলস হলে  ইন্ডেন্ট এর ভিতরের কোড স্কিপ করে চলে যাবে। 

একটা প্রোগ্রাম দেখি 
>>> x = 3
>>> if x < 10:
... print('Small')
...
Small
>>>

যখন আমাদের দুইটির বেশি কন্ডিশন এর পসিবিলিটি থাকবে তখন কি করব?
নিচের প্রোগ্রাম টা রান করো , if, elif, else এর শেষে কোলোন দিতে ভুল করো না। 

if x < y:
print('x is less than y')
elif x > y:
print('x is greater than y')
else:
print('x and y are equal')


এসব ক্ষেত্রে elif এবং else  ব্যবহার করব। elif যতবার খুশি ততবার ব্যবহার করা যায়। 


নেস্টেড কন্ডিশন ঃ 
 

একটা প্রোগ্রাম দেখি
if x == y:
print('x and y are equal')
else:
    if x < y:
        print('x is less than y')
    else:
        print('x is greater than y')


আমরা একটা কন্ডিশন এর ভিতরে আরো একটা কন্ডিশন যোগ করতে পারি,একে বলে 
নেস্টেড কন্ডিশন।

উপরে প্রথমে দেখেছি x এবং y এর ভ্যালু সমান কি না। যদি সমান হয় প্রিন্ট করেছি x এবং y সমান।
যদি সমান না হয় তাহলে else কন্ডিশন কাজ করবে। এবং else এর ভিতর ঢুকে আবার চেক করবে 
x এর চেয়ে y বড় কিনা। বড় হলে প্রিন্ট করবে x is less than y
যদি না হয় তাহলে else এক্সিকিউট করবে এবং প্রিন্ট করবে x is greater than y

পরের পর্বে এ নিয়ে আরো বিস্তারিত লিখব। আজ এ পর্যন্তই। 






 

সহজিয়া প্রোগ্রামিং শিক্ষা(পাইথন) পর্ব -৩(তিন)

সহজিয়া প্রোগ্রামিং শিক্ষা(পাইথন) পর্ব -২ (দুই)

এই পর্বে দেখব কিভাবে ইডিটরে লিখা প্রোগ্রাম রান করতে হয়। সাব্লাইম টেক্সট এ একটা প্রোগ্রাম লিখে নাম দিলাম example1.py ( পাইথন এর ফাইল সেভ করার সময় অবশ্যই .py এক্সটেনশন এ সেভ করতে হবে )

সেভ করলাম D ড্রাইভের py_code  ফোল্ডারে।

 

fullscreen-capture-2222017-120833-pm-bmp

 

রান এ যেয়ে কিংবা অল প্রোগ্রামের সার্চ বক্স এ cmd লিখে এণ্টার।

তার পর D: লিখে এন্টার

এরপর cd py_code লিখে এণ্টার

 

fullscreen-capture-2222017-112528-am-bmp

cd py_code লিখে এণ্টার  দেবার পর আমরা আমাদের পাইথন এর প্রোগ্রাম লিখা ফাইল যেখানে রেখেছি সেই লোকেশন এ চলে আসলাম। এখন python example1.py লিখে এন্টার দিলে আমাদের প্রোগ্রাম রান করবে।

 

fullscreen-capture-2222017-121034-pm-bmp

সহজিয়া প্রোগ্রামিং শিক্ষা(পাইথন) পর্ব -৪ (চার)

সহজিয়া প্রোগ্রামিং শিক্ষা(পাইথন) পর্ব -২ (দুই)

 সহজিয়া প্রোগ্রামিং শিক্ষা(পাইথন) পর্ব -১(এক)

 গত পর্বের

>>> quotient = 7 // 3
>>> print(quotient)

প্রোগ্রামের আউটপুট  2  এবং

> remainder = 7 % 3
>>> print(remainder) এর আউটপুট  1 এখানে quotient হচ্ছে ভাগফল reminder হচ্ছে ভাগশেষ।

এখন দেখব পাইথন কিভাবে ইউজার এর কাছ থেকে ইনপুট নেয়। আগের প্রোগ্রাম গুলো তে আমরা ভেরিয়েবল এর মাঝে ভ্যালু এসাইন করে দিতাম। যেমন a = 5 . এখন যদি আমরা চাই আমাদের প্রোগ্রামের  ইউজার ঠিক করবে ভেরিয়েবল a এর মান কি হবে তাহলে কি করব?

পাইথন ৩ তে এজন আমরা একটা পাইথন এর নিজের ফাংশন ব্যাবহার করব। ফাংশন নিয়ে পরে বিস্তারিত বলব আপাতত বলি ফাংশন হচ্ছে কিছু কোড স্টেট্মেন্ট এর মাধ্যমে  কোনো বিশেষ কাজ করার জন্য লিখিত প্রোগ্রাম। পাইথন আগে থেকে আমাদের জন্য এরকম কিছু ফাংশন লিখে রেখেছে আমরা শুধু ফাংশন গুলোকে কল করব বা ব্যাবহার করব। এজন্য নতুন করে আমাদের লিখার দরকার নেই। এগুল কে বলে বিল্ট ইন ফাংশন। আমরা আমাদের প্রোগ্রামিং সমস্যা সমাধান করার জন্য নিজেরা যে ফাংশন লিখব সেগুলো হলো ইউজার ডিফাইন ফাংশন।

তো এই ইউজার এর থেকে ইনপুট নেয়ার জন্য আমরা  input()  নামের বিল্ট ইন ফাংশন ব্যাবহার করব।

>>> name = input(‘What is your name?’\n)

>>print(name)

এখানে name নামে একটা ভেরিয়েবল নিলাম, সেই ভেরিয়েবল এ  input() ফাংশন কল করলাম। input() এর ভিতরে কোটেশন দিয়ে যা লিখব তা দেখাবে প্রোগ্রাম রান করার সময় । \n এর অর্থ হচ্ছে কার্সর নিউ লাইনে আসবে। তোমরা একবার \n দিয়ে রান করবে আর একবার \n না লিখে রান করাবে তাহলে বুঝতে পারবে। আমরা যদি  কটেশন এ কিছু না লিখে  দিতাম তাহলেও প্রোগ্রাম রান করবে। উপরের কোড টা ইক্সিকিউট করলে আউটপুট আসবে

What is your name?

কোন নাম টাইপ করলে তা প্রিন্ট করে দেখাবে।

গত পর্বে কিছু প্রোগ্রাম ছিলো যেগুলো তে যোগ বিয়োগ গুন ভাগ করেছিলাম।তোমাদের কাজ হচ্ছে  সেগুলতে input() ফাংশন ব্যবহার করে ইউজার থেকে ইনপুট নেয়া। আমি একটা করে দেখাচ্ছি বাকি গুলো তোমরা করবে

value1 = 55
value2 = 11
 value3 = value1 + value2
 print(value3)
এই প্রোগ্রামে input() ফাংশন ইউজ করলে দাঁড়াবে এমন
value1 = input(‘Enter the first number\n’)
value2 = input(‘Enter the second number\n’)
value3 = value1 + value 2
print (value3)
 কিন্তু এভাবে লিখলে কাঙ্ক্ষিত আউট পুট আসবে না, তোমরা ভেবে দেখো ভুলটা বের করতে পারো কিনা।
value1 = input()
value2 = input()
value3 = value1 + value2
print (value3)
 এভাবে ও লিখে দেখো কিছু আসে কিনা।
input() ফাংশন টা ইনপুট হিসেবে যা পায় তাকে স্ট্রিং ( যেমন a b c d ) হিসেবে গ্রহণ করে। আমাদের যোগ করতে হলে এই মান কে ইন্টিজার ( দশমিক ছাড়া পুর্ণ সংখ্যা হচ্ছে ইন্টিজার যেমন ৬)  বা ফ্লোট ( দশমিক যুক্ত সংখ্যা হচ্ছে ফ্লোট যেমন 6.00  এ রুপান্তর করে নিতে হবে।
উপরের প্রোগ্রাম টা যদি এভাবে লিখি
value1 = float(input(‘Enter the first number\n’))
value2 = float(input(‘Enter the second number\n’))
value3 = value1 + value2
print(value3)
তাহলে ঠিকঠাক মত যোগ ফল আসবে।  এখানে input() ফাংশন টাকে  float()  এর মাঝে লিখলে স্ট্রিং ইনপুট কে ফ্লোট এ রুপান্তর করে নেয়।  যদি int() এর মাঝে লিখতাম তাহলে ইন্টিজার এ রুপান্তর করত। তোমাদের কাজ হচ্ছে float এর যায়গায় int লিখে রান করে দেখা কি আসে আউটপুট।

কমেন্ট হচ্ছে একটা সুবিধা যাতে আমরা কোড এর পাশে তার ডিটেলসলিখে রাখতে পারি ্কিন্তু তা ইক্সিকিউট হবে না। কোনো কোড এর সামনেও আমরা বিশেষ সাইন ব্যবহার করে ওই কোড স্টেটমেন্ট কে ইন একটিভ করে ফেলতে পারি।

পাইথনে কমেন্ট করতে হলে যে লাইন কমেন্ট করতে চাই তার সামনে # ব্যবহার করতে হয়। যেমন

value1 = input(‘Enter the first number\n’)  # first variable
value2 = input(‘Enter the second number\n’) # second variable
value3 = value1 + value 2  # result
print (value3)  # print result
আজ এ পর্যন্তই, পরের পর্ব থেকে আমরা শিখব কিভাবে কোনো ইডিটর যেমন নোটপ্যাড প্লাস বা সাব্লাইম টেক্সট এ কোড লিখে কিভাবে এক্সিকিউট করতে হয়। তোমরা যেকোনো ইডিটর ইন্সটল করে রেডি থেকো। সাব্লাইম টেক্সট ২ ডাউনলোড    হ্যাপি কোডিং 🙂

 

 

 

সহজিয়া প্রোগ্রামিং শিক্ষা(পাইথন) পর্ব -১(এক)

সহজিয়া প্রোগ্রামিং শিক্ষা(পাইথন) পর্ব -০(শূন্য)

শুন্য পর্ব অনুযায়ী যারা পাইথন ইন্সটল  করেছো  তাদের জন্য কিছু কাজ, এগুলো রান করে দেখবে এবং আমাকে মেইল করে উত্তর পাঠাতে পারো বা না বুঝলে কিংবা কোড রান না করলে সাহায্য চাইতে পারো।

১।

x = 43
x = x + 1
print(x)

২।

value1 = 55
value2 = 11
 value3 = value1 + value2
 print(value3)

৩।

value1 = 88
value2 = 11
 value3 = value1 - value2
 print(value3)
৪।
value1 =50
value2 =11
value3 =value1 *value2
print(value3)
৫।
value1 =50
value2 =11
value3 =value1 /value2
print(value3)
৬।
=“Hello world!"
print(a)
৭।
=“Hello world!"
print  a
এই প্রোগ্রাম গুলোর আউট পুট কি আসে হাতে লিখে দেখতে হবে।
অপারেটর এন্ড অপারেন্ডস
আজ আলোচনা করবো অপারেটর এন্ড অপারেন্ডস নিয়ে। যোগ , বিয়গ , গুন, ভাগ বা গাণিতিক সাইন গুলো যা দিয়ে আমরা যোগ বিয়োগ গুন ভাগ করি সেগুলো কে ওপারেটর বলে এবং যে ডাটা দিয়ে যোগ বিয়োগ গুন ভাগ করি সে ডাটা গুলো ওপারেন্ডস। উপরের  যে কাজ গুলো আমি দিলাম তাতে + / * সাইন গুলো ওপারেটর।
অর্ডার অফ অপারেশন  
সোজা বাংলায় সরল করো টাইপ অঙ্ক হচ্ছে অর্ডার অফ অপারেশন। মানে যোগ বিয়োগ গুন ভাগ সব এক সঙ্গে থাকলে কোনটা আগে হবে কোনটা পরে হবে সেটা নির্ধারণ করে অর্ডার অফ অপারেশন। পাইথন সেই ছোট বেলায় শেখা PEMDAS নিয়ম মেনে চলে । তমাদের কাজ PEMDAS গুগোল করে দেখে নেয়া। কাজের সিরিয়াল হচ্ছে
প্রথমে Parentheses তার পর Exponentiation তার পর Multiplication তারপর Divisionএরপর Addition andSubtraction।
এবার নতুন জিনিস শিখব
>>> quotient = 7 // 3
>>> print(quotient)
এই প্রোগ্রামের আউটপুট কি আসে রান করে দেখো
এবং সাথে এই প্রোগ্রাম টাও
>>> remainder = 7 % 3
>>> print(remainder)
দেখে আমাকে ফেসবুকে অথবা prince.nstu@outlook.com এ মেইল করো। যারা মেইল করবে তাদের আমি
ফিরতি মেইলে মজার কিছু রিসোর্স পাঠাবো 🙂 ।
আবার কাজ 😀 
এবার আরো কিছু কাজ করো । প্রোগ্রামিং হচ্ছে চর্চার বিষয় সুতরাং তোমাকে কোড লিখে লিখেই শিখতে হবে। বুঝোনাই ব্যাপারটা 😀 😀
>>> first = 10
>>> second = 15
>>> print(first+second)
রান করো
>>> first = ‘100’
>>> second = ‘150’
>>> print(first + second)
এটাও রান করো
মনে আছে শুন্য নাম্বার পোস্ট এ একটা প্রোগ্রামে আউট পুট এসেছিল
>> print(‘2 + 4’)
24
কেনো এমন এসেছিল? যারা আমার কথা মত গুগোল করেছ তারা বুঝেগেছ নিশ্চয়ই ।
যখন আমরা সিঙ্গেল কোট বা ডাবল কোট এর মধ্যে কোন ভ্যারিয়েবল এর মান রাখি তখন সেটাকে পাইথন স্ট্রিং হিসেবে নেয়। সোজা বাংলায় সেটা কে সে ভাবে ABCD এলফাবেট এর মত। A আর B কি কখোনো যোগ হবে?
হ্যা যোগ হয়ে AB হবে বা  পাশাপাশি বসবে। এই স্ট্রিং নিয়ে কারবার কে বলে স্ট্রিং অপারেশন 
স্ট্রিং অপারেশন 
উপরের প্রোগ্রাম দুটোর রেজাল্ট আসবে যথাক্রমে 25 এবং 100150
পরের প্রোগ্রাম টায় আমরা ভেরিয়েবল first  এ সিঙ্গেল কোট দিয়ে 100 রেখেছি তাই পাইথন এটাকে স্ট্রিং হিসেবে ধরেছে। দ্বিতীয় ভেরিয়েবলে সিঙ্গেল কোট দিয়ে 150  রেখেছি তাই এটাও স্ট্রিং। যোগফল তাই পাইথন দুটকে পাশাপাশি বসিয়ে দিয়েছে। এক কাজ করো তো
>>> first = ‘100’
>>> second = 150
>>> print(first + second)
এই প্রোগ্রামের আউট পুট কি আসে দেখো।
আজ এ পর্যন্ত থাকলো। সামনের পর্বে আমরা আরো নতুন কিছু শিখব।

সহজিয়া প্রোগ্রামিং শিক্ষা(পাইথন) পর্ব -০(শূন্য)

এটা খুব সহজে প্রোগ্রামিং শেখার একটা সিরিজ এর প্রথম পোস্ট।এই সিরিজটি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর ছোট ভাই বোন দের কে উদ্দেশ্য করে লেখা তবে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের বাংলা ভাষা-ভাষীর কাজে লাগলে আমার চেষ্টা সার্থক হবে।  আমি ল্যাঙ্গুয়েজ হিসেবে পাইথন ব্যবহার করেছি।পাইথন অন্য যেকোনো ল্যাঙ্গুয়েজ এর থেকে খুব সহজ মনে হয় আমার কাছে এ জন্য পাইথন কে বেছে নেয়া। আমাদের দেশে প্রথম ল্যাঙ্গুয়েজ হিসেবে প্রায় সব ইউনিভার্সিটিতে সি শেখানো হয় কিন্তু ইউএসে তে অনেক ইউনিভার্সিটিতে প্রথমেই পাইথন শেখানো হয়।  এটা শিখতেও সোজা আবার ক্যারিয়ার প্রস্পেক্টিভ ও অনেক ভালো। তো শুরু করা যাক।আমরা এই সিরিজে পাইথন এর ভার্সন ৩ শিখব।

উইন্ডোজ  অপারেটিং সিস্টেমে বিল্ট-ইন পাইথন না থাকায় অবশ্যই আলাদা ভাবে ইন্সটল করে নিতে হবে। প্রথমে এখান থেকে  উইন্ডোজের জন্য ইন্সটলার ডাউনলোড করে নাও। ওপারেটিং সিস্টেম ৩২ বিট হলে ৩২ বিট পাইথন কিংবা ৬৪ বিট হলে ৬৪ বিট পাইথন ডাউনলোড করতে হবে। ম্যাক এর ইন্সটলারের মতই উইন্ডোজ এর জন্য ইন্সটলারটিও গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেস ভিত্তিক অর্থাৎ, মাউস এর কয়েকটি ক্লিক দিয়েই পাইথন ইন্সটল করে নিতে পারো।

এখানেও একটি গ্রাফিক্যাল পাইথন কনসোল প্রোগ্রাম ইন্সটল হয়ে যায় যাকে আমরা IDLE বলছি। Start মেনু থেকে All Programs এর মধ্যে Python 3.6 নামক ফোল্ডারের মধ্যে IDLE নামের প্রোগ্রামটি থাকবে যেখান থেকে একে চালু করা যেতে পারে।

আর যদি ঊন্ডোজের ডিফল্ট কমান্ড প্রম্পট প্রোগ্রামের মধ্যেই পাইথন ইন্টারপ্রেটার পেতে চাও  (লিনাক্স বা ম্যাকের টার্মিনালের মত করে) তাহলে পাইথন ডিরেক্টরীকে আপনাদের সিস্টেম পাথে যোগ করে নাও । অর্থাৎ C:\Python3x(ধরে নিচ্ছি  তোমরা  পাইথন ইন্সটলেশন সি ড্রাইভের মধ্যেই করেছো ) এই লোকেশনটিকে তোমার  PATHভ্যারিয়েবলে যোগ করে নাও।

নোটঃ পাইথনের লেটেস্ট ভার্সন ইন্সটল করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কম্পিউটারের PATH ভ্যারিয়েবলে পাইথন যোগ হয়ে যাওয়ার কথা।

যদি না হয়, তার জন্যঃ My Computer এর উপর রাইট ক্লিক করে Properties এ যাও ।

  • বাম পাশে Advanced System Settings এ ক্লিক  ।
  • নিচের দিকে থাকা Environment Variables এ ক্লিক ।
  • System Variables এর ভিতরে PATH এন্ট্রি খুজে বের করে Edit বাটন এন্টার।
  • এবার এর শেষে C:\Python36; লিখে OK করে বের হয়ে এসো ।
  • কমান্ড প্রম্পট চালু করো (cmd.exe) । টাইপ করো ঃ  python । এন্টার

কমান্ড প্রম্পট এর কালো পর্দায় নিচের মত লেখা দেখাবেঃ

Python 3.6.0 (default, Dec 23 2016, 12:06:52) [MSC v.1900 32 bit (Intel)] on 
win32
Type "help", "copyright", "credits" or "license" for more information.
>>>

এরকম দেখালে বোঝা গেল আমরা পাইথন ইন্সটলেশন শেষে এটাকে রান করাতে পেরেছি কমান্ড লাইনে।

প্রথম প্রোগ্রাম
উপরের যেকোনো একটি মাধ্যমে যদি কোন ভাবে  পাইথন কনসোল ওপেন করে থাকো  তাহলে নিচের লাইনটি সেখানে লিখো  এবং এন্টার দাও,

>>> print('Hello world!')

তাহলে তারপরের লাইনেই আউটপুট নিচের মত,

Hello World!

দ্বিতীয় প্রোগ্রাম

>>print(2 +4) লিখে ইন্টার দাও

আওউট পুট আসবে ৬

আচ্ছা এবার এক কাজ করো

>> print(‘2 + 4’) লিখে ইন্টার দাও

কি আউট পুট অন্য রকম এসেছে? কেনো অন্য রকম এলো এটা আমি এখন লিখব না। যখন ডাটা টাইপ স্ট্রিং এসব

নিয়ে লিখব তখন জানাবো। এর মধ্যে তোমরা চাইলে পাইথন স্ট্রিং নিয়ে  গুগোল করতে পারো।

আমি প্রতিটা পর্ব ছোট করে লিখব যাতে বুঝতে অসুবিধা না হয় এবং যা শিখাব তাই নিয়ে বিভিন্ন প্রোগ্রাম দেখাব যাতে তোমাদের বোর না লাগে।

এই পর্বে ছোট্ট করে ভেরিয়েবল নিয়ে আলোচনা  করব।

ভেরিয়েবল হচ্ছে এক কথায় ভেলু বা ডাটা রাখার পাত্র। আমাদের প্রোগ্রামে আমরা বিভিন্ন ডাটা নিয়ে কাজ  করি এবং এই ডাটা গুলো রাখার জন্য পাত্র প্রয়োজন। ভেরিয়েবল হচ্ছে সেই পাত্র। পানি রাখার জন্য যেমন গ্লাস বা জগ তেমনি প্রোগ্রামিং এ ডাটা রাখার জন্য ভেরিয়েবল।

যেমন a = 9

এখানে a হচ্ছে একটি ভেরিয়েবল , 9 হচ্ছে তার মান বা ভ্যালু। অর্থাৎ আমরা a এর মাঝে 9 রাখলাম।

এই মুহুর্তে একটা প্রোগ্রামের কথা মনে পড়ছে যেটা প্রায় সব প্রোগ্রামিং  ক্লাস এ প্রথম দিকে করানো হয় । ভেরিয়েবল সোয়াপ। মানে ধরি ভেরিয়েবল a তে একটা মান বা ভ্যালু আছে  । ভেরিয়েবল b তে একটা মান বা ভ্যালু আছে। এখন a এর ভ্যালু b তে , b এর ভ্যালু a তে নিতে হবে। আমি যখন প্রথম এটা দেখি তখন ভীষণ বিপদে পড়ে যাই কারন আমি অতি হাবলু টাইপ। তোমাদের কি মনে হচ্ছে যারা প্রথম এইটা দেখছ? অন্য ভাবে যদি বলি ২ টা গ্লাস আছে। লাল রঙ এর গ্লাস এ পানি সবুজ রঙ এর গ্লাসে তেল। আমাদের বলা হলো লাল গ্লাস টার পানি গুলো সবুজ গ্লাস টায় আর সবুজ গ্লাস এর তেল লাল গ্লাস এ নাও।  কিভাবে নিবে একটু চিন্তা করো। আমি ততক্ষনে ভেরিয়বল এর কিছু নিয়ম বলে নেই।

পাইথনে ভ্যারিয়েবল লেখার সময় কিছু নিয়ম মেনে ভ্যারিয়েবল ডিফাইন করা হয়।

  • পাইথন Case Sensitive অর্থাৎ a = 4 এবং A = 4 একই ইলিমেন্ট না।
  • প্রথম অক্ষর অবশ্যই একটি alphabet(uppercase or lowercase) হতে হবে । যেমনঃ nafis, a, b কিন্তু 1name, @nafis, 7a, %b এই ভাবে ব্যাবহার করা যাবে না । underscore ( _ ) ছাড়া অন্য কোন বিশেষ চিহ্ন ব্যাবহার করা যাবে না ।
  • কোন পাইথন কী-ওয়ার্ড ব্যবহার করা যাবে না । যেমনঃ if, else, elif, for, while, break, continue, except, as, in, is, True, False, yield, None, def, del, class ইত্যাদি।

কি ভেবে বের করতে পারলে কিছু? আচ্ছা তৃতীয় আর একটা গ্লাস নিয়ে লাল গ্লাস এর পানি তৃতীয় গ্লাস টায় ঢালবো। তখন লাল গ্লাস খালি হয়ে যাবে , লাল গ্লাসে এরপর তেল ঢালব ব্যাস , তখন তৃতীয় গ্লাসে রাখা লাল গ্লাস টার পানি সবুজ গ্লাস টায় ঢালবো। হয়ে গেলো সমাধান। দেখি  পাইথন এ কিভাবে করা যায়

>>>x = 10

>>>y = 20

>>>print (x,y)

10,20

নতুন ভেরিয়েবল নিব ,নাম z

>>>z=x

x এর মান z এ নিলাম। এখন y এর মান নিব x এ

>>>x= y

x এ y এর মান চলে আসলো , এখন z এ রেখেছিলাম যে a এর মান ওইটা y তে ঢালবো। ব্যাস কাজ শেষ।

>>>y = z

>>>print (x,y)

20,10

এভাবে তোমরা হয়ত সি দিয়েও করেছো। পাইথন কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সি এর থেকেও শক্তিশালী এবং অত্যন্ত

সোজা। পাইথনে এই ভেলু অদল বদল করতে আর একটা খালি গ্লাস বা ভেরিয়েবল না নিলেও চলে। সেটা কিভাবে করতে হয় দেখাচ্ছি

>>>x=10

>>>y = 20

>>print(x,y)

10,20

>>>x,y = y,x

>>>print(x,y)

20,10

আজ এ পর্যন্ত থাকলো। পরের পর্বে আমরা ভেরিয়েবল এবং ডাটা টাইপ নিয়ে আলোচনা করব। কোন কিছু বুঝতে সমস্যা হলে আমাকে নক করতে পারো এখানে অথবা  মেইল করতে পারো prince.nstu@outlook.com

সহজিয়া প্রোগ্রামিং শিক্ষা(পাইথন) পর্ব -১(এক)